ভূমিকম্প – কখনকি এভাবে ভেবে দেখেছেন

বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প। বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পটি কতটা ভয়ানক ছিল নেপাল এর দিকে তাকালে সেটির বাস্তব প্রমান আমরা দেখতে পাই। এককথায় বলতে গেলে নেপাল এর রাজধানী কাঠমুন্ডু সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। গণমাধ্যমগুলির মাধ্যমে আমরা সবাই দেখতে পেয়েছি অনেকেই অনেকভাবে নেপালকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন। জানিনা সাহায্য করার কথা গুলি কতটুকুন সত্য। এ কথা বলার কারণ হলো – একটি খবর এ দেখেছিলাম নেপাল এর একজন ছোট্ট মেয়ে কান্না করে বলছিল : “শুনেছি নেপাল এ ভুমিকম্পের শিকার মানুষদের জন্যে বাহিরের অনেক দেশ অর্থ সহায়তা করছেন, কিন্তু আমি তো সাহায্য পাওয়ার মতন কোনো লক্ষণই দেখতে পাচ্ছিনা। আমরা এখন বিভিন্ন রোগ এ আক্রান্ত হচ্ছি। সাহায্য করার মতন কেউ নেই। ” সেই ছোট মেয়েটি কান্না করে আরো বেশ কিছু কথা বলে। কথাগুলি শুনে বেশ খারাপ লাগে। তার এই ধরনের কথা শুনে খুব ভালোভাবেই একটি ব্যপার উপলব্ধি করলাম – মানুষের জীবন ব্যতীত আর কোনকিছুই মূল্যবান নয়, এমনকি মূল্যবান নয় মানুষের আশ্রয়স্থলও যেখানে সে এতদিন মাথা গুটিয়ে বসবাস করছে ।
এসব কথা বলার পেছনে কারণটি হলো – আমরা একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাই , ভূমিকম্প এর সময় মানুষ্ মারা যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাড়ি দালান ভেঙ্গে মানুষের উপর পরা। এ ধরনের ভয়াবহতা এড়ানোর জন্যে যদি আমরা একটু সতর্ক হই তাহলে হয়ত কিছু হলেও মানুষের মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।
যেমন ধরা যাক নিচের উদাহরণটি –
আমরা যারা বড় বড় বিল্ডিং এ বসবাস করি তাদের বিল্ডিং এর প্রায় সকল রুমই চারকোনা বক্স এর মতন হয়ে থাকে। আমরা প্রতিটা রুম বানানোর সময় যদি এমন একটি ব্যবস্থা রাখতে পারি যে ভূমিকম্প হলে যদি বিল্ডিং ভেঙ্গেও যায় তবুও যেন বিল্ডিং এর ভাঙ্গা ইট রড মানুষের মাথায় না পরে তাহলে মনে হয় মানুষের মৃত্যুর হার অনেক অংশে কমানো সম্ভব।
যদি আমরা প্রতিটা রুমের ভেতরে শক্ত ইস্টিল এর (চতুর্ভুজ বাক্স আকৃতির) ব্যবস্থা করতে পারি যার বাহিরে চারপাশে ইট রড এর দেয়াল (যে ধরনের দেয়াল সাধারণত থাকে) থাকবে তাহলে অন্তত ভুমিকম্পে দেয়াল ভেঙ্গে গেলেও চতুর্ভুজ আকৃতির সেই শক্ত ইস্টিল এর আবরণের কারণে ভাঙ্গা ইট রড মানুষের উপর পরবেনা। সেক্ষেত্রে অন্তত বাড়ির মধ্যে থাকা মানুষেরা মৃত্যুর হাত থেকে বেচে যাবেন।
এক্ষেত্রে একটা সমস্যা হতে পারে – সেটি হলো বিল্ডিং সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেলে যারা মিনিমাম চারতোলাতে (এবং এর অধিক) অবস্থান করবেন তারা যে চতুর্ভুজ আকৃতির শক্ত ইস্টিল এর মাঝে অবস্তান করবেন সেটি অনেক জোরে এসে নিচে পরবে। তবুও আমার মনে হয় যেখানে ভাঙ্গা ইট পাথর সরাসরি মাথায় পরে মৃত্যুর সম্ভাবনা ১০০% থাকে সেখানে চতুর্ভুজ আকৃতির শক্ত ইস্টিল পদ্ধতি অন্তত মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা কিছু হলেও কমিয়ে আনতে পারবে।

Leave a Reply