কার্ডিং অথবা ফ্রড ট্রানজেকশন থেকে সাবধানতার কিছু উপায়

আজ একটি অনলাইন পত্রিকাতে “কার্ডিং” নিয়ে একটি আর্টিকেল পরলাম। আর্টিকেলটি পরে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
আগে বলে নেই সেই আর্টিকেল এ “কার্ডিং” আসলে কি সেটি সুন্দর করে বোঝানো হয়েছে , নিচে সেটি তুলে ধরলাম :

কার্ডিং কি?

“কার্ডিং শব্দটা অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। আসলে কার্ডিং একটা প্রচলিত শব্দ। আপনি কোনো অভিধানে এই শব্দ পাবেন না। এই শব্দটা সাধারণত ব্যবহার হয় অনলাইন ফ্রড ট্রানজেকশন-এর বিকল্প হিসাবে। কারণ যারা ফ্রড ট্রানজেকশন করে তারা আপনার কার্ডের ইনফরমেশন চুরি করে বিভিন্ন অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্য কিনে আপনার টাকা তার নিজের মনে করে ব্যবহার করে।
অর্থাৎ আপনার ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আপনার টাকা হাতিয়ে নেওয়াকে কার্ডিং বলে। কার্ডিং শব্দটা সাধারণত ব্যবহৃত হয় যারা এই কাজ করে তাদের মধ্যে সাংকেতিক ভাষা হিসাবে। আমাদের প্রচলিত ভাষায় ‘ফ্রড ট্রানজেকশন’।”

আর্টিকেলটিতে এটিও উল্লেখ ছিল যে :

“বাংলাদেশে সম্প্রতি যে সকল এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা চুরির কেলেংকারি হয়েছে তা ফিজিক্যাল সিকিউরিটির অভাবে। মানে একজন এসে এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গেল আর আপনি দেখলেন না, এটা তো একেবারেই বাচ্চাদের মতো কাজ। তাই সার্ভারের নিরাপত্তার জন্য ফিজিক্যাল সিকিউরিটি ও সফটওয়্যার সিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

এত কিছু বলার পেছনে কারণটি আমি এখন উল্লেখ করছি :
কিছুদিন আগেও বুথ থেকে টাকা ওঠাতে যেয়ে আমি লক্ষ্য করলাম একজন বুথ এ ওনার কার্ড এন্ট্রি করার পর ওনার কার্ডের গোপন পিন নম্বরটি এমন ভাবে সবার সামনে এন্ট্রি করলেন সবাই সেই পিন নম্বরটি দেখতে পেয়েসিলো (কারণ আমি ওনার একটু দুরেই দাড়িয়ে ছিলাম) অথচ দুইদিন আগে থেকেই খবরে বুথ থেকে টাকা চুরির বেপার এ সতর্ক করে দেয়া হয়ে আসছিল। এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরেউ উনি একবারও ভেবে দেখলেননা যে ওনার টাকাও চুরি হতে পারে।

আসলে আমাদের মাঝে সচেতনতার অনেক অভাব। আজই যদি ওনার টাকা চুরি হয়ে যায় তবে কোনকিছু না ভেবেই উনি নিশ্চিন্তে ব্যাঙ্ককে দোষ দিয়ে দিবেন।

ওপরে উল্লেখ করেছি কার্ডিং এর ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল সিকিউরিটি ও একটি বড় বেপার।

আমি মনে করি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা এই কেলেংকারী থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারি।

আমি মনে করি নিম্ন লিখিত কিছু টিপস ফলো করলে কিছুটা হলেও আমরা সেভ থাকলে পারব।

১. কার্ড বুথ এ এন্ট্রি করার পর পিন কোড দেয়ার সময় আমরা আমাদের বাম হাত নম্বর প্যাড এর উপর দিয়ে ডান হাত দিয়ে পিন কোড টাইপ করতে পারি। তাহলে নম্বর প্যাড এর উপর কোনো ডিভাইস থাকলে সেটি আমাদের দেয়া পিন নম্বর টি ট্রেস করতে পারবেনা।

২. আমরা বুথ থেকে টাকা ওঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করতে পারি।
আগে জানাই দেয়া ভালো মোবাইল ব্যাঙ্কিং প্রসেস।
(আপনার যদি কোনো ব্যাংকার মোবাইল ব্যাঙ্কিং একাউন্ট থেকে থাকে তবে আপনি বুথ থেকে সে একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা বের করে নিতে পারবেন। )
i . প্রথমে বুথ এ যেয়ে আপনি আপনার মোবাইল একাউন্ট নম্বরটি বুথে এন্ট্রি করুন।
ii. এরপর টাকার পরিমান বুথ এ এন্ট্রি করুন।
iii . এবার আপনার মোবাইল এ কম্পিউটার থেকে একটি কল আসবে। কলটি রিসিভ করার পর আপনার মোবাইল ব্যাঙ্কিং এর পিন কোড আপনার মোবাইল এ ডায়াল প্যাড এ টাইপ করুন।
Iv. যদি পিন কোডটি সঠিক হয় তবে বুথে এন্ট্রি করা অর্থ বুথ থেকে বেরিয়ে আসবে।

এখন কথা হচ্ছে আপনি চাইলেই আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর সাথে আপনার মোবাইল ব্যাঙ্কিং একাউন্ট কানেক্ট করে নিতে পারবেন। এজন্যে আপনাকে শুধু ব্যাঙ্ক এ যেয়ে একটি ফর্ম ফিল করতে হবে।

যদি আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট আপনার মোবাইল একাউন্ট এর সাথে কানেক্ট করা থাকে তবে আপনি চাইলেই মোবাইল এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে অর্থ মোবাইল ব্যাঙ্কিং এ ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে সুবিধা গুলি হচ্ছে :
i . বুথ থেকে টাকা ওঠানোর ক্ষেত্রে কার্ড এর দরকার পরবেনা।
ii . মোবাইল একাউন্ট এর পিন কোড যেহেতু আপনার মোবাইল ডায়াল প্যাডএ এট্রি করতে হয় সুতরাং বুথ এ কোনো ডিভাইস লাগানো থাকলেও সেটি আপনার পিক কোড জানতে পারবেনা।

ব্যাঙ্ক গুলিও একটি সুন্দর ব্যবস্তা নিতে পারেন বলে আমি মনে করি। সেটি হল :

১. যদি নম্বর প্যাড গুলিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট বসানো থাকে এবং পিন নম্বর টাইপ করার সময় গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ প্রতি ক্লিককে যাচাই করে দেখে তবে একটু হলেও এই সমস্যাটি দূর করা সম্ভব হতে পারে।

আমি শুধু নিজের মতটিই তুলে ধরলাম নিজেদের সতর্কতার জন্যে।
ধন্যবাদ।

Leave a Reply